রমজানের শেষ হোক সদকাতুল ফিতির দিয়ে

রমজানের শেষ হোক সদকাতুল ফিতির দিয়ে

ধর্মচিন্তা

রমজানের শেষ হোক সদকাতুল ফিতির দিয়ে

রমজানের শেষ হোক সদকাতুল ফিতির দিয়ে (মাওলানা মহবুবুর রহমান)

ঈদুল ফিতরের দিনের অন্যতম আমল হলো সদকাতুল ফিতর। ইসলামে সদকাতুল ফিতরের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি জাকাতেরই একটি ধরণ। রাসুল (সা.) তা আদায়ের তাগিদ করেছেন এবং এর নিয়ম-নীতি শিক্ষা দিয়েছেন। এ কারণেই রাসুলের(সাঃ) যুগ থেকে আজ অবধি মুসলিম উম্মাহ দ্বীনে ইসলামের অন্যান্য মৌলিক আমল ও ইবাদতের মতো সদাকাতুল ফিতরও নিয়মিত আদায় করে আসছে। আমাদের এ অঞ্চলে তা ‘ফিতরা’ নামে পরিচিত।

ঈদের আনন্দে যেন মুসলিম জাতির প্রতিটি সদস্য শরিক হতে পারে এ জন্য ফিতরা ওয়াজিব করা হয়েছে।
বস্তুত সদকাতুল ফিতর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের একটি অনন্য মাধ্যম। যা এক মাস রোজা শেষে ঈদুল ফিতরের সুবহে সাদিকের সময় গরিব-দুঃস্থ মানুষের আনন্দের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ খাদ্যপণ্য অথবা অর্থ প্রদান করার জন্য ইসলাম নির্ধারিত ব্যবস্থা। সামর্থবান, জীবিকা নির্বাহের অত্যাবশ্যকীয় সমাগ্রী ছাড়া শরিয়তকর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদের মালিকদের পক্ষ থেকে, অসহায়-গরিবদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণের খাদ্য, টাকা-পয়সা প্রদান করাই মূলত সদকায়ে ফিতর, যা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। রোজা না রাখলে অথবা রাখতে না পারলেও তার ওপর ফিতরা ওয়াজিব।

রমজানের সদকাতুল ফিতর অনেকটা নামাজের সাহু সিজদার মতো। রোজা রাখতে গিয়ে অনেক ভুল-ত্রু টি হয়। সদকায়ে ফিতরের মাধ্যমে রোজার ত্রু টি-বিচ্যুতি পূরণ হয়। যেমনি নামাজের ত্রু টি-বিচুত্যি পূরণ হয় সাহু সিজদার মাধ্যমে। এ ছাড়া ধনী-গরিব উভয়ে যেন অন্তত ঈদের দিন উত্তম পোশাক ও উন্নত মানের খাবার খেয়ে যেতে পারে এজন্যেই এ ফিতরার ব্যবস্থা। ফিতরা দ্বারা সমাজের অসহায় শ্রেণীর সহায়তা করে ইসলামে সাম্যতার নজির স্থাপন করেছে।

সদকাতুল ফিতরের গুরুত্বারোপে কোরআন ও হাদিসের কতিপয় দলিল

সাদাকাতুল ফিতর সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
قد افلح من تزكى وذكر اسم ربه فصلى.
অর্থ : নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে সে, যে শুদ্ধ হয় এবং তার পালনকর্তার নাম স্মরণ করে অতঃপর সালাত আদায় করব।

মহান আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র বলেন-
أَأَشْفَقْتُمْ أَنْ تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَاتٍ فَإِذْ لَمْ تَفْعَلُوا وَتَابَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ.
অর্থ : তোমরা কি কষ্টকর মনে করো চুপে চুপে তোমাদের কথা বলার পূর্বে সদকা দিতে, আর আল্লাহ ক্ষমা করে দিলেন তোমাদের তখন তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আনুগত্য কর আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের। আর আল্লাহ সম্যক অবহিত তোমরা যা কর তা সম্পর্কে।
উপরোক্ত আয়াতদ্বয়ে সাদাকাতুল ফিতরের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।

হাদীস শরীফে সাদাকাতুল ফিতরের বর্ণনাঃ

সাদাকাতুল ফিতর সম্পর্কে হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বর্ণনা পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো-

প্রথম হাদীস :


عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : فرض رسول الله صلى الله عليه و سلم زكاة الفطر صاعا من تمر أو صاعا من شعير على العبد والحر والذكر والأنثى والصغير والكبير من المسلمين وأمر بها أن تؤدى قبل خروج الناس إلى الصلاة.
অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমান কৃতদাস ও আযাদ পুরুষ ও নারী এবং ছোট বড় সকলের উপর সাদাকাতুল ফিতর এক সা’ খেজুর বা যব নির্ধারণ করেছিলেন এবং ঈদগাহে রওয়ানা হওয়ার পূর্বে আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

দ্বিতীয় হাদীস :


عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده : أن النبي صلى الله عليه و سلم بعث مناديا في فجاج مكة ألا إن صدقة الفطر واجبة على كل مسلم ذكر أو أنثى حر أو عبد صغير أو كبير مدان من قمح أو سواه صاع من طعام.
হযরত আমর বিন শুয়াইব রা. হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার মক্কার গলিসমূহে ঘোষণাকারী পাঠিয়ে ঘোষণা করলেন, জেনে রাখ! সাদাকায়ে ফিতর ওয়াজিব প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ ও নারী, আযাদ ও গোলাম এবং ছোট ও বড় সকলের উপর দুই ‘মুদ’ গম বা উহা ছাড়া অন্য কিছুর বা এগুলো ছাড়া অন্য কিছু বা এক সা’ খাদ্য।

তৃতীয় হাদীস :


عن عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ثَعْلَبَةَ أَوْ ثَعْلَبَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِى صُعَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ – قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- صَاعٌ مِنْ بُرٍّ أَوْ قَمْحٍ عَلَى كُلِّ اثْنَيْنِ صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى أَمَّا غَنِيُّكُمْ فَيُزَكِّيهِ اللَّهُ وَأَمَّا فَقِيرُكُمْ فَيَرُدُّ اللَّهُ عَلَيْهِ أَكْثَرَ مِمَّا أَعْطَاهُ .অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সা’লাবা অথবা সালাবা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু সুআইব তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এক সা’ গম প্রত্যেক দুই ব্যক্তির পক্ষ থেকে ছোট হোক বা আযাদ হোক বা গোলাম হোক এবং পুরুষ হোক বা নারী, তোমাদের মধ্যে যে ধনী তাকে আল্লাহ এর দ্বারা পবিত্র করবেন, কিন্তু যে দরিদ্র তাকে আল্লাহ ফেরত দিবে যা সে দিয়েছিল তা হতে অধিক।

চতুর্থ হাদীস :


عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ.
ইকরামা রহ. ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন রোজাকে অনর্থক কথা ও অশ্লীল ব্যবস্থার হতে পবিত্র করার এবং গরীবের মুখে অন্ন তুলে দেয়ার জন্য।

পঞ্চম হাদীস :


عن أبي سعيد الخدري رضى الله عنه قال : كنا نخرج زكاة الفطر صاعا من طعام أو صاعا من شعير أو صاعا من تمر أو صاعا من أقط أو صاعا من زبيب.
হযরত আবু সাঈদ রা. বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যামানায় সাদাকায়ে ফিতর এক সা’ খাদ্য, এক সা’ যব, এক সা’ খেজুর, এক সা’ পনির অথবা এক সা’ আঙ্গুর দিতাম।

ষষ্ঠ হাদীস :


عن ابن عباس رضي الله عنه قال : في آخر رمضان أخرجوا صدقة صومكم . فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه الصدقة صاعا من تمر أو شعير أو نصف صاع من قمح على كل حر أو مملوك ذكر أو أنثى صغير أو كبير . رواه أبو داود والنسائي.
অর্থ : হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি রমযানের শেষের দিকে বললেন, তোমরা তোমাদের রোযার যাকাত আদায় কর। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক স্বাধীন ব্যক্তি ও কৃতদাস, পুরুষ ও নারী এবং ছোট ও বড় সকলের উপরে এই যাকাত এক সা’ খেজুর ও যব অথবা আধা সা’ গম নির্ধারণ করেছেন। (আবু দাউদ ও নাসায়ী রহ. এ হাদীস বর্ণনা করেছেন)

সপ্তম হাদীসঃ


হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) ইরশাদ করেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত সদকায়ে ফিতর আদায় করা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার রোজা জমিন ও আসমানের মাঝখানে ঝুলন্ত থাকে।’ (কানযুল উম্মাল, হাদিস : ২৪১২৯)

*কতিপয় মাসআলা ও জ্ঞাতব্য বিষয়ঃ*


১) যার ওপর কুরবানি ওয়াজিব, অর্থাৎ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা তার সমপরিমাণ টাকা থাকে, কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সম্পদ ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের পর বিদ্যমান থাকে তাহলে তার ওপর ঈদুল ফিতরের দিন সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। চাই তা ব্যবসার সম্পদ হোক বা না হোক, বৎসর অতিবাহিত হোক বা না হোক, পুরুষ হোক বা মহিলা হোক কোনো পার্থক্য নেই। (হেদায়া ১/১৯০)

২) যার ওপর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব, তিনি নিজের পক্ষ থেকে যেমন আদায় করবেন, তেমনি নিজের অধীনদের পক্ষ থেকেও আদায় করবেন। (ফাতহুল কাদির ২/২৮১)

৩)বিত্তবান মহিলার উপর নিজের সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। তার উপর ছেলেমেয়ে বা অন্য কোন আত্মীয়ের ফিতর ওয়াজিব নয়। (ফতোয়ায় হিন্দিয়া)

৪) সন্তানের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর পিতার পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। তবে পিতা সন্তানের পক্ষ থেকে আদায় করে দিলে আদায় হয়ে যাবে। তেমনি স্বামী স্ত্রীর সদকায়ে ফিতর আদায় করলে তাও আদায় হয়ে যাবে। (আদ্দুররুল মুখতার )

৫) মাতা-পিতা, ঠাকুরদা-ঠাকুরদী, নানা-নানী, ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি এবং দৌহিত্র-দৌহিত্রিকে সদকায়ে ফিতর দেওয়া জায়েজ নয়। ( বাদাইয়ুস সানায়ে)

৬)স্বামী স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দেওয়া জায়েজ নয়। (বাদাইয়ুস সানায়ে)

৭) আত্মীয়দের মধ্যে ভাই-বোন,মামা-মাসি,কাকু পিসি এবং তাদের সন্তান সন্ততিকে সদকায়ে ফিতর দেওয়া জায়েজ এবং উত্তম। (বাদাইয়ুস সানায়ে)

৮)ঈদের দিন সুবহে সাদিকের পূর্বে যে নবজাতক দুনিয়ায় এসেছে কিংবা কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে, তার থেকেও সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯২)

৯)পিতার উপর নাবালক ছেলে মেয়েদের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। (আলমগীরি)

১০)পাগল ব্যক্তি নিসাবের মালিক হলে তার পক্ষ থেকে অভিভাবকদের উপর সদকায়ে ফিতর দেওয়া ওয়াজিব। (দুর্রুল মুখতার)

১১)প্রবাসীদের জন্য নিজের এবং নাবালক ছেলে মেয়েদের সদকায়ে ফিতর প্রবাসের বস্তুর মূল্য অনুযায়ী আদায় করা ওয়াজিব। তবে ফিতরার অর্থ দেশে বা প্রবাসে আদায় করতে পারবেন। (রুদ্দুল মুহতার)

১২)স্বামীর উপর স্ত্রীর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। যদিও আমাদের এতদঞ্চলে স্ত্রীর ফিতরা স্বামী আদায় করেন।

১৩)ফিতরায় টাকার পরিবর্তে ঐ পরিমাণের কাপড় দেয়া জায়েয। (ফতোয়ায় শামি)

১৪) রমজানের আগে সদকায়ে ফিতর দেওয়া জায়েজ নয়। (ফতোয়ায় তাতারখানিয়া )

১৫)একটি ফিতরা একজনকে দেওয়া উত্তম।( দর্রুল মুখতার)। তবে একটি সদকায়ে ফিতর কয়েকজনের মধ্যে বন্টন করাও জায়েজ। (ফতোয়ায় শামি)১৬)পরিবারের কয়েকজনের সদকা মিলিয়ে একজন গরিবকে দেয়া যেতে পারে। অথবা একজনের সদকা কয়েকজন গরিবকেও দেয়া যেতে পারে। তবে উত্তম হলো, একজন গরিবকে এই পরিমাণ ফিতরা দেয়া, যা দিয়ে সে তার ছোটখাটো প্রয়োজন পুরা করতে পারে কিংবা দু’তিন বেলা খেতে পারে। (রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৪)

১৭) ফিতরার টাকা মসজিদ মাদ্রাসা ঈদগাহ বা অন্য কোথাও খরছ করা জায়েজ নয়। (ফতোয়ায় শামি)

১৮)নিসাবের মালিক ব্যক্তি যদি কোন কারণবশত রোজা পালন না করেন, তবুও তার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব।( রদ্দুল মুহতার)

১৯)যে ব্যক্তি ঈদের দিন সুবেহ সাদিকের আগে মৃত্যূবরণ করেছে, তার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব নয়। (আলমগীরি)

২০)যে বাচ্চা ঈদের দিন সুবেহ সাদিকের পর জন্ম লাভ করেছে তার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব নয়। (আলমগীরি)

২১) কোন ব্যক্তি যদি বিনা নিয়তে কাউকে কোন কিছু প্রদান করে এবং পরে সদকায়ে ফিতরের নিয়ত করে। তাহলে সদকায়ে ফিতর আদায় হবে না। (ফতোয়ায় হিন্দিয়া)

*জ্ঞাতব্যঃ*


অধিক মূল্যের দ্রব্যের দ্বারা ফিতরা আদায় করা ভালো। অর্থাৎ যা দ্বারা(আগে উল্লেখিত সমূহ দ্রব্যাদির মধ্য থেকে যেটির মূল্য)আদায় করলে গরিবের বেশি উপকার হয় সেটাই উত্তম ফিতরা। এক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তাই উত্তম দাতার নিকট যা সর্বোৎকৃষ্ট এবং যার মূল্যমান সবচেয়ে বেশি।’ (সহিহ বুখারি ৩/১৮৮) তাই আমাদের সবার দায়িত্ব হলো নিজের সামর্থ অনুযায়ী বেশি মূল্যের পণ্য দ্বারা ফিতরা আদায় করে নিজে বেশি সওয়াব লাভ করা এবং গরিবদের বেশি সহযোগিতা করা।

উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারত এমারতে শরয়ীয়াহ ও নদওয়াতুত তামীর( মহামান্য আমীরে শরীয়ত হযরত মাওলানা ইউসুফ আলী সাহেবের মতানুসারে), জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ সহ সমূহ ভারতীয় ইসলামিক সংগঠন কর্তৃক (উল্লেখিত হারে বাজার মূল্য হিসাবে) এবছর ফিতরার সর্ব নিম্ন মূল্য পঞ্চাশ (৫০)টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।অবশ্য নদওয়ার তরফ থেকে খেজুরের মূল্য হিসাবে তিনশত ছাব্বিশ টাকা ষাট পয়সা (৩২৬.৬০টাকা)ও কিশমিশের মূল্য হিসাবে আট শত ষোলো টাকা পঞ্চাশ পয়সা(৮১৬.৫০ টাকা) ফিতরা দেওয়ার জন্য সামর্থ বান দের প্রতি জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে।সেই পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়।
একই ভাবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব কারী “ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ” নামক সংস্থাটি প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ফিতরার মূল্য সর্বনিম্ন ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ এক হাজার ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে তাই তাঁদের সাধুবাদ জ্ঞাপন করছি।

শেষ পানে সবার কাছে এটুকু আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন আমরা যথাযথভাবে সদকায়ে ফিতর আদায় করি।শুধু ওয়াজিব আদায়ের স্বার্থে সর্বনিম্ন মূল্যে সদকায়ে ফিতির(ফিতরা) আদায় না করে অধিক পূণ্যার্জনের তাগিদে সামর্থানুযায়ী যথাসাধ্য বেশী মূল্যের(নির্দিষ্ট) ফিতরা আদায়ে সচেষ্ট হই।গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুখে নির্মল হাসি ফোটানোর চেষ্টা করি। পরম স্রষ্টা আল্লাহ পাক মোদের সবারে যথার্থ ভাবে সদকায়ে ফিতির আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।।

কালপুরানে লেখা পাঠানোর নিয়মাবলি

লেখাটি আপনাদের পছন্দ হলে অবশ্যই একটা লাইক দিবেন এবং কমেন্ট করে আপনাদের মতামত জানাবেন। যেকোনো সমস্যায় আমার মেইল ঠিকানায় অথবা ওয়েবসাইটের চ্যাট আইকনে ক্লিক করে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, ধন্যবাদ।

ফেসবুক প্রোফাইল , ফেসবুক গ্রুপ , ফেসবুক পেজ , টুইটার , হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ , টেলিগ্রাম গ্রুপ , মেইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *