বলুক রূপকথারা

বলুক রূপকথারা

গল্প সাহিত্য

বলুক রূপকথারা

গল্প:- বলুক রূপকথারা
কলমে:- মিলন পুরকাইত ।

আর্য আর তিতিরের কাছে আজকের দিনটা বেশ অন্যরকম। কারণ এতদিন ধরে একটু একটু করে তারা যে একে অপরের প্রতি ভালবাসার জাল বুনেছে, তাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার তাগিদে প্রথম বার দেখা করতে আসছে দুজন। আর আজকের দিন টাও হলো প্রত্যেকটা প্রেমিক প্রেমিকার জন্য একটা বিশেষ দিন,এই ভালবাসার সপ্তাহে আজ হল প্রতিজ্ঞা দিবস বা বলা যায় পুরো বছরের এই একটি দিন তারা তাদের ভালোবাসার মানুষের কাছে আবার একবার নতুন করে নিজেদের মধ্যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবার সুযোগ করে নেয় এক অপরের থেকে। তো সেই বিশেষ দিনে আর্য আর তিতির দেখা করতে আসেছে।

আর্য আর তিতির এখন দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রী।এই অতিমারি পরিস্থিতিতে স্কুল বন্ধ থাকায় তাদের অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে।এইভাবে পড়াশোনা করা একটু অসুবিধা হলেও,তারা বেশ মানিয়ে নিয়েছে।প্রত্যেকদিন প্রাইভেটের পড়া করে শিক্ষককে পড়া দেয়।আর্য পড়াশোনাতে বেশ ভালো,তিতিরও অবশ্য কম যায় না। দুজনের বেশ রেষারেষি চলে অনলাইন ক্লাসে।দুজনেই দুজনকে সমান ভাবে টক্কর দেয় আজ আর্য ভালো তো কালকে তিতির।এখানে বলে রাখি তিতির আর আর্য একই শহরের হলেও দুজনই কিন্তু অপরিচিত দুজনের।এই একই প্রাইভেটে অনলাইন ক্লাস করতে এসে তাদের পরিচয় হয়। তারপর আবার,দুজন যেভাবে একে অপরকে প্রত্যেকদিন টক্কর দিচ্ছে পড়াশোনাতে,পরিচয় না হয়ে উপায় কি!তো যাই হোক,বেশ কাটছে দুজনের।এর মধ্যেই হঠাৎ একদিন টিউশান এর অঙ্কের একটি প্রশ্নের উত্তর করতে না পেরে,অনলাইন ক্লাসের গ্রুপ থেকে অর্যোর এর নাম্বারটা নিয়ে তিতির কল করে আর্য কে।

— হ্যালো কে?
— হ্যালো আমি তিতির বলছি!
(তিতির নিজের পরিচয় দেওয়ার পর)
— তিতির ! হ্যাঁ বল, হঠাৎ আমাকে ফোন করলি !
— স্যার যে কাল কে আমাদের অংকটা দিয়েছিলেন সেটা না আমি কোন ভাবেই বুঝতে পারছিনা,আর স্যার কে ঘুরে প্রশ্ন করতে পারছি না বকে যদি। তাই জন্য তোর কাছে জানতে কল করলাম।
— ও এই ব্যাপার, হ্যাঁ বল আমি কিভাবে সাহায্য করতে পারি তোকে।
— তুই কি অংক টা সমাধান করতে পেরেছিস ? যদি পেরেছিস তো বল আমাকে প্লিজ।
— হ্যাঁ আমি পেরেছি। তুই অংক টা কর আমি তোকে সহজ পদ্ধতিটা বলে দিচ্ছি অংকটা করার।

তারপর যথারীতি আর্যর আর তিতির এর মাঝেমধ্যেই সুবিধা অসুবিধা হলে একে অপরকে কল করে তারা তাদের পড়াশোনা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান খুঁজে নেয়। এই ভাবেই বাড়তে থাকে তাদের কথাবার্তা।

আর এইসবের মাঝেই আস্তে আস্তে ভালোলাগা খারাপ লাগা গুলো কথা বার্তা আদান প্রদানে অনেকটাই সহজ হয়েগেছে ওদের মধ্যে। আর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুত্ব নামক সম্পর্কটা তে বিশ্বাস আর ভরসা বাড়তে বাড়তে সেটাও কবেই ভালোবাসাতে পরিণত হয়ে উঠেছে সেটা ওরা নিজেরাও বুঝতে পারেনি।

আর্য আর তিতিরের এই ভালোলাগার থেকে ভালোবাসার দিকে আসতে থাকা প্রেমের হাওয়া বেশ তীব্র হয়ে উঠেছে। তিতিরের নিজের কোন ফোন না থাকায় একটু আধটু অসুবিধায় পড়তে হয় তাকে মাঝেমধ্যে। আর আর্য এখানে অপেক্ষায় থাকে কখন তিতির তাকে ফোন করবে সারাদিনের পর একবার।

কৈশোরের প্রেমেও আবার মাঝে মধ্যে রাগ অভিমানের মেঘ ঘনায় দুজনের মধ্যে। সেইরকমই একদিন আর্যর অভিমান হওয়ায় ক্লাসে আসেনি সে। সেই দেখে তিতির একটু বেশি অস্বস্তি বোধ করছিল ওকে ক্লাসে না দেখে। তাই ক্লাস শেষ করেই তিতির আর্য কে ফোন করল –

— হ্যালো অর্য, তুই আজ ক্লাসে আসিস নি কেনো ?
— (একটু রাগ কমিয়ে উত্তর দিল আর্য)
এর আগের দু’দিন ক্লাস ছুটি ছিল,তাও কেন ফোন করলিনা আমাকে?
— (প্রত্যুত্তরে তিতির বলল)
দেখ আমাদের এত সামর্থ্য নেই যে আমি আলাদা করে ফোন কিনতে পারবো বা আমাকে বাড়ি থেকে কিনে দেবে আলাদা একটা। বাবার ফোন থেকেই অনলাইন ক্লাস গুলো করি, আবার ক্লাস শেষ হয়ে গেলে বাবাকে ফেরত দিয়ে দিই। তার মাঝে একটু ফাঁকা সময় তোকে কল করি।আমার বাড়ির প্রত্যেকটা লোকই খুব স্ট্রিক্ট আমাকে নিয়ে, সব সময় চোখে চোখে রাখে, আর আমিও ভীষণ বাবাকে ভয় পাই। তাই যখন তখন চাইলেই কল করতে পারি না।
— (তিতিরের অবস্থা বুঝতে পেরে)


তিতিরের কাছে ক্ষমা চেয়ে,আর্য বললো আমি তো তোর ওপর মিথ্যে অভিমান করেছিলাম,তোর অবস্থাটা না জেনে। তবে তোকে আমারও একটা কথা বলার আছে আমিও কিন্তু খুব বড়লোক বাড়ির ছেলে নই। তুই যদি আমাকে দুদিন ছাড়া ছাড়া এখানে সেখানে যেতে বা তোর কোন রকম আবদার পূরণ করতে বলিস আমি সেটা পারব না।
— না,আমার এরকম কোন কিছু চাহিদা নেই বা থাকবে না তোর প্রতি।যেটা সম্ভব বলে মনে হবে সেটাতেই মানিয়ে নেব দুজন।

এই সবকিছু নিয়ে চলতে চলতেই দুইজন ঠিক করল দেখা করবে একদিন। আর শত কাজের মধ্যে তাদের দিন গোনার অবসান ঘটিয়ে এই ভালবাসার সপ্তাহটিতে তারা আজ প্রতিজ্ঞা দিবসের সকাল বেলায় নিজেদের বাবা মায়ের চোখ বাঁচিয়ে দেখা করতে এসেছে। সেই সকাল থেকে আর্য দাঁড়িয়েছিল বাস স্ট্যান্ডে এক ঘন্টা ধরে,তারপর তিতিরের দেখা পেয়ে আর্য বেশ স্বস্তি অনুভব করল। তারপর একে অপরের হাত ধরে এগিয়ে যেতে লাগল এক নতুন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রাস্তার দিকে।

কালপুরানে লেখা পাঠানোর নিয়মাবলি

লেখাটি আপনাদের পছন্দ হলে অবশ্যই একটা লাইক দিবেন এবং কমেন্ট করে আপনাদের মতামত জানাবেন। যেকোনো সমস্যায় আমার মেইল ঠিকানায় অথবা ওয়েবসাইটের চ্যাট আইকনে ক্লিক করে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, ধন্যবাদ।

ফেসবুক প্রোফাইল

ফেসবুক গ্রুপ

ফেসবুক পেজ

টুইটার

হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ

টেলিগ্রাম গ্রুপ

মেইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *