মর্নিং শোজ দা ডে

মর্নিং শোজ দা ডে

গল্প সাহিত্য

মর্নিং শোজ দা ডে : সুরজিৎ পাল

‘মর্নিং শোজ দা ডে’; সহসা কর্ণযুগলে দ্রুত পশিল গতিশীল বাক্যবাণ । অলংকরণে মুগ্ধ ও সমাধিস্থ। গিন্নীর কোকিল কন্ঠের তান – ‘দুদিন ধরে বলাই সার, মনুষ্য নামের ধাব্বা, খুব ভাল করে উনি জানেন মাছ ছাড়া আমার ভাত রুচেনা , তবুও ওনার কানে জল প্রবেশে ব্যার্থ। যেমন মন ভোলা তেমন ঘাড়ট্যারা , একটা আস্ত গন্ডার। আমার বাবার বাড়িতে এমন তর জন্তু কোন দিন দেখিনি বাবা।


বেড়ালের ন্যায় মিউ মিউ করে বললাম, হাতের বুড়ো আঙ্গুলে একটা সুতো বেঁধে দাও, আজ ঠিক নিয়ে আসব। মনে মনে আওড়ে গেলাম আজ বেড়ালের পেটে মাছের জোগান নিশ্চিত আছে। শব্দ মনে না থেকে, মুখ থেকে একটু বেরিয়ে গেছে ,আর যায় কোথায়।শোনা মাত্রই ট্যাঙ্ক, কামান, গ্রেনেড বর্ষন শুরু। যৎপরনাস্তি ছুঁড়ে দেওয়া আধপোড়া মাখন সহযোগে পাউরুটি গলাদ্ধকরণ , স্কুটার স্টার্ট করে বহির গমনে উদ্যত। খুনসুটি করে আধ ডজন ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে,বাই বাই করে মেকি ভালবাসার বাক্য বর্ষন করে সাময়িক আগুন নেভানোর পূর্বের কৌশল ব্যবহার করে রাস্তায় গমন।গলায় গুন গুন করে গান ধরলাম, “তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সনম,
পিয়ার হোতা হ্যায় দিওয়ানা সনম,
অব এহাসে কাঁহা যায়ে হম,
তেরে বাহো সে ছুটকরা পায়ে হ্যা…ম” ।

মর্নিং শোজ দা ডে

গানান্তে গান (বন্দুক) ধারনে কারখানায় প্রবেশ। পার্টনারের তীক্ষ্ম সরু গলার হাক, সুরজিৎ দা। বোলিয়ে ক্যায়া বাত। অভি অভি নুপুর দত্ত কা ফোন আয়া। ২০ টন মাল তো পরশো ভেজে হ্যায়, বোলে – মাল রিটার্ন করলিজিয়ে । তো আপ কিয়া বোলে। কুছ কমতি বেশি করে মিলালিজিয়ে। এখানেই তো আদত খারাপ করে দিয়েছেন, আমার রুড়কি যাওয়ার সময় থেকে।

বলতিছে ২০০/- টনে কম কোইরাদিন , নাহলে ডিফেক্ট মাল রিটার্ন করুন। ১০০-১৫০ টাকা টনে কম লগাকর রখ্ দিজিয়ে।মানা নেহি। তপনজি ফোন লগাইয়ে আর বোলিয়ে রিটার্ন করো। লোকশান হোইয়ে জাবেন। ড্রাইভার কে বলুন মাল নিয়ে ব্যাক করতে। পিছলা বার ভি
এইসা কিয়া।

এর জন্যেই মাল রিটার্ন করতে বললাম। কলকাতায় অন্য পার্টিকে দিলেই খবর হবে। চিন্তা মত কিজিয়ে। লোকশান উঠালেঙ্গে।
অপারেটার কে এক হাত নিলাম। কোন ব্যাচের মাল। ম্যানেজার কে বের করতে বলা হল এবং সেই সিফ্টে কারা কাজ করেছে, কাল ৯ টার মধ্যে রিপোর্ট চাই।
তপন কে জিজ্ঞেস করলাম দুতিন দিনের মধ্যে কাঁচা ( র)মেটেরিয়াল আনতে হবে।

টাকার অবস্থা বলুন তো ? পেমেন্ট ঠিক নাহি হ্যায়। চলিয়ে স্কুটার মে বৈঠিয়ে।
মার্কেটে গিয়ে টাকা ওঠাতে গলদঘর্ম হয়ে তপন কে বললাম,ছোড়িয়ে আজ কুছ নেহি হোনে বালা হ্যায়। সুবহসে দিনমান ঠিক নেহি হ্যায়। তপন ফ্যালফ্যাল করে মুখের দিকে চেয়ে থাকল।

মর্নিং শোজ দা ডে


কাম ছোড়িয়ে কহিপে ঘুম আতে। চলিয়ে ঠিকই বোলে হ্যায়। স্কুটার নিয়ে রংটং মুখি হলাম। দার্জিলিং মোড়ের পর ধীরগতিতে চলেছি।একে একে দাগাপুর, শালবাড়ী, মেথিবাড়ী পেরিয়ে সুকনা পৌঁছে, বুদ্ধির গোঁড়ায় ধোঁয়া দিয়ে আবার যাত্রা শুরু। ধীরগতিতে গল্পে মসগুল হয়ে এগিয়ে চলা।

সুকনা বনবাঙ্গলো পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া। এখন দু ধারে জঙ্গল চিরে রাস্তা দিয়ে আধ কিলোমিটার এগিয়েছি কিনা হঠাৎ জোর গলায় অনেক লোকের চিৎকার। ভাগো,ভাগো, হাতী । তপন ক্ষীণ গলায়, সুরজিৎ দা ‘হাঁতী’….,বলেই মাথা আমার পিঠে রেখে নিশ্চুপ।ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি ,হাতী আমাদের ধাওয়া করেছে । আমরা ১২-১৪ ফুট দুরে । এ্যকসেলেটার পুরটা ঘুরিয়ে দিয়েছি। স্কুটার গতি বাড়াতে পারছে না। হাতী আর আমাদের দূরত্ব তখন ৭-৮ ফুট। তপন নিশ্চল মনে হয় অজ্ঞান ই হয়েছে। ক্রমশঃ দূরত্ব কমছে।৩০০ মিটার দুরের লোকগুলো আর জোরে চ্যাচাচ্ছে, এই ভেবে যদি হাতী রণে ভঙ্গ দেয়।

আরো পড়ুন

সেগুরে বালি।
হাতীর গতি আর স্কুটারের গতি একই বিন্দুতে ধাবমান। দূরত্বের তফাৎ ৫-৬ ফুট। এই বিষয়টি প্রায় ৫-৬ মিনিট ধরে চলছে। সাক্ষাৎ মৃত্যু দূত ঘন্টা বাজিয়ে শব বাহকের সরঞ্জাম সাজিয়ে দন্ডায় মান। হঠাৎ স্কুটার পূর্ণ গতি অর্জন করতেই ,শা শা গতিতে ছোটা শুরু করায় ,হাতী পেছাতে থাকে। দূরত্ব বাড়তে লাগল। বিস্ফারিত চোখ গুলো তখন স্থির । হাতীর রণে ভঙ্গ।

আমরা পাহাড়ী উঁচু জায়গায় লোকগুলোর কাছে পৌঁছে গেছি। ওরা আমাদের ছুঁয়ে দেখছে । তপনের স্তম্ভিত ফিরেছে। লোক গুলো জলের বোতল এগিয়ে দিয়েছে। তপন নিমেষে আধা বোতল জল খেয়ে নিয়েছে। ওর অবস্থা সহজেই অনুমেয়। কোন এক বাঙালি ভদ্র লোক বলে উঠলেন রাখে হরি মারে কে। স্কুটার টিকে দাড় করিয়ে এক দৃষ্টে দেখে যাচ্ছি সবকিছু। চোখ দুটি স্হির । সহসা দেখলাম হাতী টি ধীর লয়ে জঙ্গল মুখো। পাঁচ মিনিটে অদৃশ্য। গাড়ির ড্রাইভার রা আমায় অনুরোধ করছেন, আমাদের পিছু পিছু আসুন। আমরা জানান দিই , রংটং আমরা যাবোই । বারংবার মনে ভেসে ওঠে ” মর্নিং শোজ দা ডে” ।


যথারিথি বাড়ি ফিরে আসি। গিন্নীর মাছ শব্দকে এক লহমায় মুখ বন্ধ করে দিলাম । মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচে ফিরলাম। শুনেই উদ্বেগ দেখলাম তার চোখ মুখে। কি হয়েছে, স্কুটার দুর্ঘটনা, মারপিট ।
না না ওসব কিছু নয়। সমস্ত ঘটনার বিবরণ দিলাম । মর্নিং শোজ দা ডে বলে উঠলাম।
সেদিনের পর আজ পর্যন্ত কোন দিন আমার সকাল তেমন হয়নি। আর আমি ও মাছ আনতে ভুলে যাইনি। মাছে ভাতে বেশ আছি।

লেখাটি আপনাদের পছন্দ হলে অবশ্যই একটা লাইক দিবেন এবং কমেন্ট করে আপনাদের মতামত জানাবেন। যেকোনো সমস্যায় আমার মেইল ঠিকানায় অথবা ওয়েবসাইটের চ্যাট আইকনে ক্লিক করে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, ধন্যবাদ।

ফেসবুক

টুইটার

হোয়াটসঅ্যাপ

1 thought on “মর্নিং শোজ দা ডে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *