হতাশা ও ইসলামের বিধান

ধর্মচিন্তা

হতাশা মানবজীবনের একটি অতি সাধারন অবস্থা। মানবজীবনের আঁকেবাঁকে সুখ-শান্তি সমৃদ্ধির সাথে সাথে হতাশারও স্থান রয়েছে। 

উইকিপিডিয়ার মতে,

“কোনও ইচ্ছেপূরণ না হলে বা কাজের আশানুরূপ ফল না পেলে যে মানসিক অবসাদের সৃষ্টি হয় তা হলো হতাশা।”

মূলত হতাশা এক ধরনের মানসিক অবস্থা। এটি মানবজীবনের এমন একটি অবস্থা যখন কোনো ব্যক্তি তার জীবনের প্রতি সব আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, আশা দেখতে না পায়, নিজের সম্বন্ধে, অন্যের সম্বন্ধে, এমন কি সমগ্র পৃথিবী সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে এইরকম অবস্থা যদি ১৫ দিন বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে, তখন তাকে হতাশা বলে। 

সবচেয়ে ভয়ানক কথা হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান মতে, প্রতিবছর সারা পৃথিবীতে আট লাখেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে। প্রতি ৪০ সেকেন্ডে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও একজন মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে।

মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআনে মানুষের হতাশা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়া’লা অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাবে বলেছেন। মানুষের হতাশা সম্পর্কে তিনি সুরা বনি ইসরাঈলের ৮৩ নাম্বার আয়াতে বলেছেন,

“আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি, তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও দূরে সরে যায়। আর তাকে অনিষ্ট (বিপদ) স্পর্শ করলে সে একেবারে হতাশ হয়ে যায়।” (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৮৩)

হতাশার একটি মূল কারনের মধ্যে একটি হলো কোনো কিছু নিয়ে সংশয় ভাবাপন্ন হওয়া। সংশয় বা সিদ্ধান্তহীনতার কারনে একটি মানুষ অতি সহজেই হতাশার অতল গহ্বরে পতিত হয়। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়া’লা পবিত্র কুরআন মজিদে সুস্পষ্ট সমাধান প্রদান করেছেন। তিনি বলেন,

“যা তোমার পালনকর্তা বলেন, তাই হচ্ছে যথার্থ সত্য। কাজেই তোমরা সংশয়বাদী হইও না।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৬০)

সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশার সম্মিলনে এগিয়ে চলে মানুষের জীবন। আঁধার কেটে গেলে আলো আসবেই। তাই যেকোনো মুমিন ব্যক্তির উচিত সদাসর্বদা মহান আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলা ও ধৈর্য ধারন করা। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়া’লা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

“বলে দাও, হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ—আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না…।” (সুরা : জুমার, আয়াত : ৫৩)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *